ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে আটকদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
গতকাল রোববার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থিত পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দা এবং একই উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য ও পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও কনস্টেবলসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে এ মামলার বাদী এসআই আসাদ শেখও রয়েছেন।
কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সরকারি কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান এবং তাদের ওপর হামলা করে সাধারণ ও গুরুতর জখম করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ মামলায় ২৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, গতকালের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে উল্লিখিত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থিত পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের স্থানীয় আধিপত্য ও পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই দফায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের ওই আট সদস্যসহ অন্তত ৬০ জন আহত হন।
জহির হোসেন/এসএইচএ
