বিজ্ঞাপন

অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের মামলায় বিএনপি-যুবদলের ৯ নেতাকর্মী কারাগারে

অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের মামলায় বিএনপি-যুবদলের ৯ নেতাকর্মী কারাগারে

ফেনীর সোনাগাজীতে মৎস্য খামারি হাজী সিরাজুল হকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৯ জুন) ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ছালামত উল্যাহ শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন-সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজল হক সোহেল, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুবদলকর্মী মোশারফ হোসেন, মো. আসিফ, আরিফ শুভ, মো. নীরব, বেলাল হোসেন, দাউদুল ইসলাম ও মো. সৌরভ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ হাজী সিরাজুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন। এর আগে ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে হাজী সিরাজুল হকের নতুন বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হাজী সিরাজুল হক সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় মাছের খামারের ব্যবসা করেন। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি তার পরিবারের সদস্যরা খামার থেকে মালামাল আনতে গেলে প্রতিপক্ষের ১৫-২০ জনের একটি দল তার ছেলে ফরহাদুল ইসলাম বিপ্লব ও রাকিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারধর করে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলসহ খামারের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়া হয়, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

হাজী সিরাজুল হকের ছেলে ফরহাদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ওই ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করায় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রান্নাঘরে আগুন দেয়, বসতঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনার পরদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে জীবনের নিরাপত্তা দাবি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে।

দলীয় সূত্র জানায়, মামলার বাদীর সঙ্গে আপস-মীমাংসার আলোচনা চলছিল। এ অবস্থায় উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে আসামিরা নির্ধারিত তারিখে ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে আসামিরা নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

তারেক চৌধুরী/এসএইচএ