বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ায় মাদক দিয়ে স্ত্রী-শাশুড়িকে ফাঁসাতে গিয়ে জামাতা কারাগারে

কুষ্টিয়ায় মাদক দিয়ে স্ত্রী-শাশুড়িকে ফাঁসাতে গিয়ে জামাতা কারাগারে

স্ত্রীর কাছ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের (তালাক) নোটিশ পেয়ে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলেন স্বামী। ফন্দি আঁটেন- স্ত্রী ও শাশুড়িকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে শ্বশুরবাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতর মাদক রেখে উল্টো পুলিশকে খবর দেন তিনি। কিন্তু নিখুঁতভাবে মাদকের অবস্থান বলে দেওয়ায় পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে তার ওপরই। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। মাদক দিয়ে স্ত্রী-শাশুড়িকে ফাঁসাতে গিয়ে এখন নিজেই কারাগারে সেই জামাতা।

সোমবার (২৯ জুন) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুন্টিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ওই জামাতার নাম হাবিবুল ইসলাম (৩২)। তিনি একই উপজেলার মাঝিহাট গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। সোমবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মিরপুর থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে কুন্টিরচর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ের সঙ্গে মাঝিহাট গ্রামের হাবিবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগে ছিল। পরে মেয়ের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, হাবিবুল মাদকাসক্ত। হাবিবুল ভবঘুরে প্রকৃতির, যেটুকু আয় করতেন তার সবই মাদকের পেছনে খরচ করতেন। তাদের ৮, ৫ ও ৩ বছর বয়সী তিন ছেলেসন্তান আছে। শ্বশুর ফারুক হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি ভ্যান চালিয়ে যা আয় করতেন, তার বেশির ভাগই মেয়ের সংসারে দিতেন। এদিকে স্বামীকে শাস্তি দিতে ও মাদকের পথ থেকে ফেরাতে কয়েক দিন আগে হাবিবুলের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান তার স্ত্রী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাবিবুল।

পুলিশ জানায়, স্ত্রী ও শাশুড়িকে শাস্তি দিতে রোববার রাতে শ্বশুরবাড়ির ঘরের পেছনের জানালার গ্রিল কেটে বালিশের নিচে মাদক রেখে দেন হাবিবুল। এরপর তিনি নিজেই প্রথমে স্থানীয় মাঝিহাট ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) অনিক ব্যানার্জিকে ফোন করে মাদকের তথ্য দেন। তবে আইসির ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হওয়ায় হাবিবুল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও মাদকের বিষয়টি জানান।

মাঝিহাট ক্যাম্পের আইসি অনিক ব্যানার্জি বলেন, ‘হাবিবুল যখন আমাকে কল দেন, তখন আমি কুর্শা ইউনিয়নে একটি অভিযানে ছিলাম। যেতে দেরি হওয়ায় তিনি আবার ৯৯৯-এ ফোন করে মাদকের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আমি ফারুক হোসেনের বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করি।’

অনিক ব্যানার্জি আরও বলেন, ‘হাবিবুল মাদক কোথায় আছে, কিসের নিচে আছে– সব তথ্য নিখুঁতভাবে দিচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যে আমরা ২৮টি ট্যাপেন্টাডল বড়ি (ট্যাবলেট) উদ্ধার করি। কিন্তু তার দেওয়া তথ্যের ধরনে সন্দেহ হলে হাবিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি স্বীকার করেন ওটা তার শ্বশুরবাড়ি এবং স্ত্রীর সঙ্গে তালাকের বিষয়টিও জানান। পরে মিরপুর থানার ওসিকে জানালে তিনি উভয় পক্ষকে থানায় নিতে বলেন। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাবিবুল প্রতিশোধ নিতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ফাঁসাতে মাদক রাখার কথা স্বীকার করেন।’

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, হাবিবুল নিয়মিত মাদক সেবন করেন। এ নিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। স্বামীকে মাদক থেকে ফেরাতে স্ত্রী তালাকের নোটিশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবুল শ্বশুরবাড়িতে মাদক রেখে পুলিশকে খবর দেন। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করে।

ওসি আরও বলেন, ‘মাদক কোন ঘরের কোন খাটের ওপর, কোন বালিশের নিচে আছে, তা সে (হাবিবুল) একটার পর একটা বলতে থাকে। এতে সন্দেহ হলে আমরা উভয় পক্ষকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন হাবিবুল স্বীকার করেন যে স্ত্রী ও শাশুড়িকে শিক্ষা দিতে তিনি নিজেই এই মাদক রেখেছেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

রবিউল আলম ইভান/বিআরইউ