কক্সবাজারের রামুতে পিকআপ ভ্যানে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করার পাশাপাশি দুজনকে আটক করা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং রামু ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
সোমবার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামুর মরিচ্যা বিজিবি চেকপোস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন– উখিয়া উপজেলার পালংখালীর পশ্চিম পালংখালীর বাসিন্দা মো. জাহেদ হোসেন (২৫) এবং পিকআপচালক বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ির বাসিন্দা সৈয়দ করিম (২৭)। সৈয়দ করিম বর্তমানে রামুর ফতেখাঁরকুল এলাকায় বসবাস করেন। জব্দ করা পিকআপ ভ্যানটির নম্বর ভোলা-ন ১১-০৩৭৩।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রামুর চৌমুহনী এলাকার একটি গুদাম থেকে উখিয়ার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পালংখালী বাজারের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার পাচার করা হচ্ছে– এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মরিচ্যা চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি করে ৫০ কেজি ওজনের ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পিকআপটি জব্দ এবং ওই দুজনকে আটক করা হয়।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ করা সার যাচাই করি। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সারগুলো এবং ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। কৃষি উপকরণের অবৈধ পরিবহন ও পাচার রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকার বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি উপকরণ নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্যত্র পাচার বা অবৈধভাবে পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দ করা ইউরিয়া সার, পিকআপ ভ্যান এবং আটক দুজনকে রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/বিআরইউ
