কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ছুরিকাঘাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) হত্যা মামলায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকার একটি ঝোপঝাড়ের পাশ থেকে বাবুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। নিহত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার মামা-ভাগনের সম্পর্ক ছিল।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শফিকুল ইসলাম একই গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বাদী হয়ে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উৎসুক হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এ সময় তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়।
মামলার বাদী বেগম আক্তার বলেন, আমার চাচাতো বোনের ছেলে বাবুল আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। সে প্রায়ই আমাদের হুমকি-ধমকি দিত। আমার ভাইকে হত্যার ঘটনায় বাবুলের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। আমরা দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ঘটনার পরপরই একাধিক টিম মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের অদূরে একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরকে
