কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে জেলায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আমন বীজতলা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষক।
তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে দুধকুমার নদের তীব্র স্রোতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। ভাঙন কবলিতস্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুরিয়ার হাট এলাকার খলিল মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙি নদীর পানি ডুকেছে। পানি বাড়া শুরু করলে বাড়িতে পানি ডুকবে। হামার খুব তখন বিপদ হইবে। রাতে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
একই এলাকার হোসেন আলী (৫০) বলেন, বাড়িত পানি উঠছে রাইতত ঘুম হয় না। কখন জানি পোকা মাকর আসে। রান্না করার খুব কষ্ট হইছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। উদ্ধারকারী নৌকা, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাউবো বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে এরকম অবস্থা আরও ৩/৪দিন বিরাজ করবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরকে
