বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি

গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শরীফ আল রাজীব পিপিএম।

এদিন দুপুরে পলাশবাড়ি উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের একই স্থলে কর্মসূচিকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

শরীফ আল রাজীব বলেন, দুটি রাজনৈতিক দলের একই স্থানে সমাবেশকে ঘিরে এই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অন্যথায় জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার জুনদহ নামক স্থানে পলাশাবাড়ি উপজেলা বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এক সংঘর্ষে দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি ও জামায়াত। ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে পৌরবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ স্বাক্ষরিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার ওই আদেশে বলা হয়, উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে, তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে পলাশবাড়ী চৌমাথা হতে ৫০০ মিটার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে ৩০ জুন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত (সাত ঘণ্টা) উপজেলার পলাশবাড়ী চৌমাথার চতুর্দিকে ৫০০ মিটার এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ১৪৪ (The Code of Criminal Procedure, 1898) ধারা জারি করা হলো। উক্ত ধারা মতে ওই স্থলে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, কোন ধরনের অস্ত্র, লাঠি বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন, শ্লোগান বা মিছিল, শব্দবর্ধক যন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে এই আদেশে সেখানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পরে খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সংঘর্ষে দুই দলের আহতদেরকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলকসহ তার দলের তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ‎

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এজাহার দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাসুম বল্লিাহ/এএমকে