কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মিরদী ফাযিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) আমিরুন্নেসার ইনডেক্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি এমপিওভুক্তির পর থেকে উত্তোলিত বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
সোমবার (২৯ জুন) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, আমিরুন্নেসার এনটিআরসিএ সনদ জাল ও ভুয়া বলে অভিযোগ করেন কাজী শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমিরুন্নেসার দাখিলকৃত এনটিআরসিএ সনদ যাচাই করে তা জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ৫ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০০৯-এর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে নথিতে উল্লেখ থাকলেও প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে তার সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তোলিত ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা পরিশোধ করেননি।
পরবর্তীতে অভিযোগ পুনর্বিবেচনার পর শুনানি শেষে সর্বশেষ ইনডেক্স বাতিল এবং সব বেতন-ভাতা ফেরতের সিদ্ধান্ত আসে।
জানা গেছে, আমিরুন্নেসা ২০১২ সালে মিরদী ফাযিল মাদরাসায় প্রভাষক (আরবি) পদে যোগ দেন। ২০১৩ সালে এমপিওভুক্ত হন এবং ২০২৩ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
অভিযোগকারী কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি অনুসন্ধান করে দেখি অনেকেই ভুয়া সনদে চাকরি করছেন। আমি তথ্য প্রমাণ নিয়ে অভিযোগ করি। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও প্রস্তাব দেওয়া হলেও আমি রাজি হইনি।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া সনদধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমিরুন্নেসা বলেন, ‘আপনার সঙ্গে পরে বিস্তারিত কথা বলব।’
মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সভা করা হবে।
এসএইচএ
