প্রায় এক যুগ আগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত মো. আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামানিকের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন শিশুটিকে ধর্ষণ করছে। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে কিশোরীকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার শুনানিকালে সাক্ষীদের জবানবন্দি, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত বলেন, অর্থদণ্ড হিসেবে নির্ধারিত ২ লাখ টাকার পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। দণ্ডিতের বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। প্রয়োজন হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা দেবেন।
একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, প্রায় ১১ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়ে আদালতের নির্দেশ নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে
