বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি

কুড়িগ্রামে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নামতে শুরু করায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও দ্রুত কমে আসছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই গ্রামের একটি অংশে নদী রক্ষা পাড়ের প্রায় ১৫ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। এরপরেই ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। খবর পেয়ে রাত থেকেই ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় এখনো ওই অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

দুধকুমার নদী তীরবর্তী মুড়িয়ারহাট গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর নুর মোহাম্মদ (৫০) বলেন, দুধকুমার নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ঘরের ভেতর এখন পানি। আসবাবপত্রের কিছুটা অংশ পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ঘরের ভেতরে রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে অন্যের উঁচু বাড়িতে গিয়ে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। গত দুই দিন ধরেই এই পরিবারটি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে নদীর পাড়ে ওই খোলা অংশে ৩০০ মিটার এলাকায় ব্লক ও জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। এ জন্য ৭ ধারা জারির অপেক্ষায় আছি। জমি অধিগ্রহণ হলে আগামী বছরেই আমরা অবশিষ্ট বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করবো। এটি বাস্তবায়ন করা হলে এই অংশে ভাঙন সমস্যা আর থাকবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে নিচু এলাকায় অবস্থিত ৪৯৯ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে আমন বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চিনা ৩ হেক্টর, মরিচ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর। জেলায় মাঠ পর্যায়ে ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর ফসল দণ্ডায়মান রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, বন্যার কারণে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজকে পানি নেমে যাওয়ার ফলে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২৭৫ মেট্রিকটন চাল ও ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূরুঙ্গামারীতে বন্যাকবলিত এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ পর্যায়ে রয়েছে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এএমকে