বিজ্ঞাপন

‘বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যদিয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব’

‘বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যদিয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব’

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিনিয়র জেলা জজ মঞ্জুরুল হোসেন বলেছেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যদিয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আপস-মীমাংসার মাধ্যমে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত মিলনায়তনে ‘মামলাজট নিরসনে বাধ্যতামূলক প্রি-কেইস মেডিয়েশন এবং পোস্ট কেইস মেডিয়েশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সব বিচারপ্রার্থীর ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড বিনামূল্যে আইনি পরামর্শসেবা প্রদানসহ আপস-মীমাংসা করছে। এই কার্যক্রমের বার্তা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এখনো ছড়িয়ে পড়েনি। তাই প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল এইড নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাহলে মামলা জট ও বিচার প্রার্থীদের হয়রানি কমবে।

রংপুর জেলা ও দায়রা জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন মহানগর দায়রা জজ মশিউর রহমান খান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খৃষ্টফার হিমেল রিছিল, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন, মেডিয়েটর ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএএম মুনীর চৌধুরী, আরডিআরএস কর্মকর্তা মেজবাহুন নাহারসহ অন্যরা।

চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শবনম মোস্তারী তার স্বাগত বক্তব্যে জানান, রংপুর লিগ্যাল এইড কার্যালয় ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ফৌজদারি, দেওয়ানি ও পারিবারিক বিরোধ আপস-মীমাংসার ২ হাজার ৯৬৭টি আবেদনের মধ্যে ৩৬২টি নিষ্পত্তি করেছে এবং ৬৪১টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ৪০২ আপস-মীমাংসার আবেদন নথিজাত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ১৯১ জনকে আইনি পরামর্শসেবা দিয়েছে লিগ্যাল এইড।

সেমিনারে রংপুরের বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে