বিজ্ঞাপন

মাহমুদুর রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত জাতীয় ঐক্য কোনোভাবেই বিভক্ত হতে দেওয়া যাবে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত জাতীয় ঐক্য কোনোভাবেই বিভক্ত হতে দেওয়া যাবে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় ঐক্য কোনোভাবেই বিভক্ত হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেই, তবে তা যেন এমন পর্যায়ে না পৌঁছায়, যাতে পরাজিত ফ্যাসিবাদ বা অন্য কোনো অশুভ শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মাহমুদুর রহমান বলেন, পলাশীর যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক পরাজয় নয়, বরং বাংলার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারানোর সূচনা। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের বৈধ অধিকার অর্জন করে, যার ফলে কয়েক বছরের মধ্যে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে।

​তিনি ১৯৪৭ ও ১৯৭১ উভয় ঐতিহাসিক ঘটনাকেই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইতিহাসকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে না দেখে সত্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে ব্রিটিশদের ছড়ানো অপপ্রচার ও চরিত্র হননের বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও নিবিড় গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে কীভাবে ঝুঁকিতে ফেলে, পলাশী তার বড় প্রমাণ। দেশীয় স্বার্থগোষ্ঠী বিদেশি শক্তির সঙ্গে আপস করলে রাষ্ট্র বিপন্ন হয়।

​বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্য করতে এসে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল। বর্তমান বিশ্বেও অর্থনৈতিক আধিপত্য ও বাণিজ্যিক প্রভাবের মাধ্যমে নতুন ধরনের ‘নব্য-উপনিবেশবাদ’ কাজ করছে। তাই শুধু উন্নয়ন নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সততা ও দেশপ্রেম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কোনো উন্নয়নই গ্রহণযোগ্য নয়।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার লুৎফুল এলাহী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দীন।

​জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর সভাপতিত্বে ও জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় সভায় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামসহ ছাত্র সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

আরএআর