বিজ্ঞাপন

মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেই ছাত্রদল নেতাকে পাল্টা মারধরের অভিযোগ

মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেই ছাত্রদল নেতাকে পাল্টা মারধরের অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরেরও অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল  ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন জিসানুর।

জিসানুর সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে এবং তিনি বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক। অন্যদিকে সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জিসানুর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়েই আমাদের ওঠা বসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজে যেতে হয়। সে সুবাদে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান সাহেবের সাথে আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের সুবাদে প্রদর্শনী দেওয়ার আশ্বাসে আমাকে চারটা আবেদন করতে বলেন। পরে বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের মোট চারটি আবেদন করি। প্রদর্শনীগুলোর বরাদ্দে বিভিন্ন খরচ বাবদ মৎস্য কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু মুলিয়া ইউনিয়নের একটি বরাদ্দ ছাড়া আর বাকি তিনটির বরাদ্দ তিনি দেননি। মুলিয়া ইউনিয়ন বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর টাকা থেকেও বিভিন্ন অযুহাতে টাকা রেখে দেন। কৃষক-খামারিদের কাজ না করায় টাকা ফেরত চাইলে, তিনি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েক দফায় আমাকে ঘুরান। 

জিসানুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের অফিসে গিয়ে প্রদর্শনী তালিকা এবং কাজ না করে দেওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চাই। টাকা ফেরত চাইতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। টাকা নেওয়ার প্রমাণ দিতে বলে তিনি (মৎস্য কর্মকর্তা) অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। গালিগালাজের পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘আগে পুলিশ মেরে পুলিশের চাকরি ছাড়ছি, দরকার হলে এবার তোকে (জিসানুর) মেরে এ চাকরিও ছাড়বো।’ এ ধরনের ব্যবহারের কারণে আমি মোবাইল ফোনে সব রেকর্ড করি। তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ফোনটি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন। 

এসময় তার অফিসের স্টাফ তকদির, দীপু, জামশেদ এসে আমাকে মারধর শুরু করেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে রায়হান সাহেবের হাতের ধাক্কায় তার টেবিলে থাকা মনিটর পড়ে যায় এবং আমাকে সবাই মিলে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারে। তার টেবিলে থাকা পেপার ওয়েট দিয়ে আমার বুকে পিঠে আঘাত করে। ধস্তাধস্তি ও মারধরের মধ্যে তাদের কেউ একজন আমার গলায় থাকা সাড়ে ৬ আনার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেন। এছাড়াও মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। তবে আমি থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা থেকে জানানো হয়, সাক্ষী ছাড়া মামলা হবে না। আমি একা ছিলাম, সাক্ষী কোথায় পাব? সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণের বিচার দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. জিসানুর রহমান। 

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুরের অভিযোগের সত্যতা জানতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি ছুটিতে আছেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

প্রসঙ্গত, গত রোববার (২৮ জুন) রাতে অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য কাজে বাধাদানসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর রহমানসহ আরও অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

মো. তাহের/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন