বিজ্ঞাপন

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষ, একজন গুলিবিদ্ধ

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষ, একজন গুলিবিদ্ধ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা সুমন শেখ (১৮) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে ওই মহল্লার একাধিক বাসিন্দা দাবি করেছেন। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অন্তত দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই সময় মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকে পড়ে এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসানদিয়া মহল্লার কিশোরদের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের উত্তেজনা চলছিল। রাত পৌনে ৮টার দিকে দুই পক্ষের শত শত লোক ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে চারটি গুলির আওয়াজ শোনা যায় বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

এসময় কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হন বলে কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লাবাসীর দাবি। সুমন শেখ আহত হওয়ার পর কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার পক্ষ পিছু হটে। পূর্ব হাসানদিয়া মহল্লার পক্ষ কুমার নদের সেতু পার হয়ে দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডে চলে আসে। পরে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর হয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, সংঘর্ষে আহত সুমন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার চোয়ালে গুলির ক্ষত রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের কারণে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সংঘর্ষ থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে গুলির ঘটনা ঘটেছে কিনা, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জহির হোসেন/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন