বিজ্ঞাপন

রক্ষা পেতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ তরুণের, ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য আটক

রক্ষা পেতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ তরুণের, ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য আটক

শেরপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণকে জোর করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে মারধর, ছিনতাই ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে র‍্যাবের টহল গাড়ি দেখে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে লাফ দিয়ে প্রাণ বাঁচান সেই তরুণ। পরে র‍্যাব ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী লিখন হাসান (১৯) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গুজারকুড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে বোনের বাসা থেকে সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ি শেরপুরে ফিরছিলেন লিখন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তিনি ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় বাস থেকে নেমে শেরপুরগামী অন্য বাসে উঠতে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।

এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এসে তার সামনে থামে। চালকসহ তিনজন সেখানে ছিল। তারা জোর করে লিখনকে অটোরিকশায় তুলে তার বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। এরপর তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও ৩১০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে কেওয়াটখালী বাইপাস সড়কের ময়নার মোড় এলাকায় অন্য একটি অভিযানে যাওয়ার পথে র‍্যাবের একটি টহল গাড়ি দেখতে পান লিখন। সুযোগ বুঝে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে লাফ দেন। পরে র‍্যাব সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশায় থাকা তিনজনকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর এলাকার রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (২০), বলাশপুর আবাসন প্রকল্প এলাকার সাব্বির হোসেন ওরফে তপন (২০) এবং কেওয়াটখালী শ্মশানপাড়া এলাকার মো. সোয়াদ (১৯)।

মঙ্গলবার র‍্যাব আটক তিনজনকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখন হাসান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের মতো আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছি। এদের সঙ্গে আরও কারা আছে, তা দেখা হচ্ছে।

র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, আটক তিনজন জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক ইজিবাইকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে আসছিলেন। চক্রটি অনেক বড়। তাদের সবাইকে ধরতে আমরা কাজ করছি।

সাখাওয়াত সুমন/আরকে

বিজ্ঞাপন