ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মানিক মিয়া (৪০) নামে এক বেহারাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উত্তর জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. শোয়েব মুন্সির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের সতিশা রোড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। পেশায় তিনি পালকি গাড়ির চালক ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়া জানান, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. শোয়েব মুন্সির সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তার ভাই গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে বসে ছিলেন। এ সময় শোয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে মানিক মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
তিনি আরও জানান, হামলার পর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে বাসস্ট্যান্ডে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক জানান, বুধবার দুপুরে হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার উরু ও পা ভেঙে গিয়েছিল, তবে ত্বক ফেটে হাড় বাইরে বের হয়নি।
এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে মো. শোয়েব মুন্সির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শামছুল হক বলেন, আমরাও শুনেছি একজন লোককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দেখেছি শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলছে না, সবাই নীরব। একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি উদ্ঘাটন করা দরকার।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। নিহতের পরিবার আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবে বলে জানিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাখাওয়াত সুমন/এসএইচএ
