বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় বাঁধটির প্রায় ৩০ মিটার অংশে তীর সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্লক ও মাটি ধসে যেতে শুরু করে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মাঝে মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রাদের দাবি দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলা শহরসহ হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে শত শত হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই নদীতীরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদীতে ধসে যেতে থাকে। আকস্মিক এই ঘটনায় কাঁচকোল সড়ক-সংলগ্ন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় আলামিন মিয়া (৫০) বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমার পর থেকে যে ভাবে ভাঙন চলছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধটির বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে।

একই এলাকার আছমা বেগম (৫৫) বলেন, খুব ভয় লাগতেছে। চোখের সামনে বাঁধের ভাঙন দেখি আমার ঘুম হারাম হয়া গেইছে। রাইত যদি গোট বাঁধ ভাঙে, গেলো হয় তাহলে সবাই পানিত ভাসিল হয়। এই অবস্থায় রাইতে ঘুম হবার নয়। খুব চিন্তায় আছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ নৌকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস রোধে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধটির ওই অংশে নকশা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ঘনত্বে ব্লক ও বস্তা ডাম্পিং না হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন করে টেকসই নির্মাণকাজ করা হবে।

মমিনুল ইসলাম/আরকে

বিজ্ঞাপন