বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষার প্রথম দিনেই তারা কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারায় কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তাদের ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও মানবিক বিভাগের ওই ১০ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৪ জুন অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হলেও তাদের দেওয়া হয়নি। তখন শাওন দাবি করেন, দেরিতে ফরম পূরণ হওয়ায় তাদের কাগজপত্র পরে আসবে। এরপর কয়েক দফা নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে অপেক্ষা করালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ১ জুলাই রাতের পর থেকে অভিযুক্ত শাওনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, শাওন নিজেকে কলেজের স্টাফ পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসেই আমরা টাকা দিই। পরে বারবার প্রবেশপত্র চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তখন আর কোনো সমাধান হয়নি। আমি এর কঠিন শাস্তির দাবি করছি।
আরেক শিক্ষার্থী হাসর মিয়া বলেন, ফরম পূরণের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর শাওন অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অবস্থানের ভিডিও পাঠিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করারও চেষ্টা করেন। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের একটা বছর নষ্ট হয়েছে। আমরা এই শাওনের শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো বিষয়টি তার নজরে আসে। কলেজে ফরম পূরণসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এ জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। কোনো কর্মচারীর হাতে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শাওন খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।
মতিউর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আব্দুল মোমিন/আরএআর
