বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় কলেজছাত্র হত্যা, আত্মগোপনে থাকা আসামি বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় কলেজছাত্র হত্যা, আত্মগোপনে থাকা আসামি বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমন (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে কয়েকদিন পরপর আসামিরা স্থান পরিবর্তন করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

এর আগে গতকাল বুধবার গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকা থেকে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধার র‍্যাব-১৩ ক্যাম্প, র‍্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্প ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশের যৌথ দল। এ নিয়ে এই মামলার নামীয় পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের মৃত ফয়জার রহমানের ছেলে রেজাউল করিম ছানা (৫৫) ও তার ছেলে মো. নাসিরুল আহসান আকিব (৩৫)।

এর আগে ঘটনার দিন গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন আকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি খাতুন।

নিহত রুমন একই এলাকার মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হন রুহিত রুমনের আপন বড় ভাই।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে তারা স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। তাঁরা শুধু গাইবান্ধা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পলাতক আসামিরা গাইবান্ধা থেকে প্রথমে বগুড়া যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে তাঁরা ঢাকার কল্যাণপুর, তারপর মোহাম্মদপুর এবং পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে তারা নদী পার হয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন।

তিনি জানান, আসামি বাবা-ছেলে সর্বশেষ গাজীপুরে তাদের এক আত্মীয়ের সহায়তায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী রেলস্টেশন এলাকার পিয়ারাপুর গ্রামে খুন হন ফাহমিদ রুমন (১৯)। আহত হন তার বড় ভাই রুহিত। ঘটনার সময় জনরোষ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি খাতুনকে সদর থানায় হেফাজতে নেয় পুলিশ। 

ঘটনার পরদিন (৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকার পিয়ারাপুর গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় নিহতের পরিবার-স্বজনসহ স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে বাড়িঘরের ভেতরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরে এই ঘটনায় ৯ জুন নিহত রুমনের মা বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযুক্ত আকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি খাতুনের নাম থাকায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মাসুম বিল্লাহ/আরএআর