বিজ্ঞাপন

নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৬ শিক্ষককে অব্যাহতি

নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৬ শিক্ষককে অব্যাহতি

নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষার দুইটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ছয় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় মনোহরদীতে এমসিকিউ ও সদর উপজেলায় লিখিত পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রটিতে লিখিত অংশ শেষে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় মনোহরদী সরকারি কলেজের দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথমপত্রের ‘খ’ সেট (১২১ কোড) ভিন্ন প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মিলানোর সময় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, পরীক্ষার হলে আমরা বুঝতেই পারিনি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি আমাদের ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন ভালো ফলাফল নিয়ে আমরা চিন্তিত। 

খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। 

মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টির সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। 

জানা গেছে, ওই কক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা (হল সুপার), প্রভাষক সামছুল আলম, প্রভাষক মাহমুদুর রহমান এবং প্রভাষক মো. আকরাম হোসেন।  তাদেরকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে যেসব ধাপ রয়েছে, সে বিবেচনায় এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। 

এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১ নম্বরের রুমে কিছু শিক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় ২০২৫ সালের ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর দেখতে পান, তাদের প্রশ্নপত্রটি গত বছরের। তারপর তারা সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের জানালে ওনারা প্রশ্নপত্রটি নিয়ে নতুন বছরের প্রশ্নপত্রটি দিয়ে পরীক্ষা শেষ করে। 

এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রের ২০১ নম্বর রুমে কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পেরে আবার নতুন বছরের সিলেবাস বিতরণ করা হয়। বিষয়টিতে আমরা বিব্রত। 

তিনি বলেন, কেন্দ্রের প্রশ্ন আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে সর্বোপরি দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে শোকজ করা হয়েছে। আর পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কারণে তারা ভালোভাবে পরীক্ষা শেষ করতে পেরেছে। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। 

নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

আমিনুর রহমান সাদী/এসএইচএ