লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক অন্ধকার কাটিয়ে ৫দিন পর বিদ্যুৎ পেয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ জুন সোমবার রাতে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী,দুর্গাপুর, গোড়ল ও চলবলা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় । এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার রাতে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।
এরপর থেকেই লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম এবং রংপুর থেকে আসা পল্লী বিদ্যুৎ এর বিভিন্ন মেকানিক্যাল টিম, বিকল হওয়া পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটি চালু করার জন্য নানা ধরনের পর্যবেক্ষণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেও ব্যর্থ হলে, ঢাকা থেকে নতুন পাওয়ার ট্রান্সফর্মার এনে নতুন করে স্থাপন করে।
নতুন পাওয়ার ট্রান্সফর্মার স্থাপন করার পরে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাব-স্টেশনটি থেকে গ্রাহকের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
তালুক দুলালী এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, দীর্ঘ প্রায় ৫ দিন পরে আমরা বিদ্যুৎ সেবা পেলাম, এখন থেকে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ার ফলে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে চলে যায়। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার এনে প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এসএইচএ
