সরকারি হাসপাতালের কর্মঘণ্টা ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামাম উল হক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরামবাগ মোড়ে অবস্থিত ‘চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে’ রোগী দেখার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়েছেন।
জানা গেছে, ডা. ইনজামাম উল হক দীর্ঘদিন ধরে অফিস চলাকালে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ রোগী দেখার কাজ করে আসছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ওই দিন সকাল থেকেই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে’ অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে একজনকে রোগী সাজিয়ে পাঠানো হয় ওই হাসপাতালে। সেখানে এক হাজার টাকা ফি দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রামের সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে ওই হাসপাতালে আসেন ডা. ইনজামাম। তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমে ঢুকে কাজ শুরু করতেই সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ক্যামেরা দেখামাত্রই ওই কক্ষ থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান এই চিকিৎসক।
পালিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ডা. ইনজামামের পিছু নিলে তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে নামাজ পড়তে এসেছিলেন। তবে জোহরের আজানের সময় প্রাইভেট ক্লিনিকের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষে তার কী কাজ—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
ডা. ইনজামামকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাচ্ছি না। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার এখানে এসে চিকিৎসা করেছে টাকার জন্য। তাহলে আমরা কোথায় যাবো, কোথায় চিকিৎসা পাবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, ডা. ইনজামাম সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার সঙ্গেই দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরপরের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
তিনি বলেন, অফিস চলাকালে বাইরে প্র্যাকটিস করাটা কারও পক্ষেই সমীচীন নয়। তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া একটি লিখিত অভিযোগ পেলে একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
আশিক আলী/আরএআর
