বিজ্ঞাপন

বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের অভিযোগ

অভিযানের খবর পেয়ে পালালেন কাজি, লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ প্রশাসনের

অভিযানের খবর পেয়ে পালালেন কাজি, লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ প্রশাসনের

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একটি এম এম আর ও কাজি অফিসে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার সামসুল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ সময় অফিস থেকে দুজনকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাজি অফিসটি তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ওই এম এম আর ও কাজি অফিসে এই অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন জানান, রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপনে তার অফিস পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে রেজিস্ট্রার সামসুল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে অফিসে থাকা সুফিয়ান ও আবদুস সাত্তার নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অফিস থেকে বিবাহ নিবন্ধনের ভলিউম বই জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এম এম আর ও কাজি অফিসটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গগত, এর আগেও বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন।

আফজালুল হক/বিআরইউ