বিজ্ঞাপন

ঠাকুরগাঁও

ভাঙা কালভার্টে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, সংস্কারে নেই এলজিইডির উদ্যোগ

ভাঙা কালভার্টে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, সংস্কারে নেই এলজিইডির উদ্যোগ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে প্রায় সাত মাস ধরে এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদ হয়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ছোট যানবাহনের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় বাড়ছে সময়, ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মলানখুড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে গেছে পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়ক। এটি সেনুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। কাজ চলাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন বারবার চলাচলের কারণে কালভার্টটি দেবে যায়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। কিন্তু কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেটি সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া কালভার্টের দুই পাশে মাটি ধসে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড নেই। রাতে অন্ধকারে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মোটরসাইকেলচালক মিলু ও জীবন হক বলেন, আগে এই সড়ক দিয়ে কয়েক মিনিটেই গন্তব্যে পৌঁছানো যেত। এখন দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচও হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক মুনসুর আলী বলেন, ভাঙা কালভার্টের কারণে আমরা এই পথে অটোরিকশা চালাতে পারি না। বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছি। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কালভার্ট সাত মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে। কিন্তু এলজিইডির কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। মানুষের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।

জব্বার নামে এক পথচারী বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ইতোমধ্যে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় কৃষক কুলেশ রায় বলেন, এটি কৃষিনির্ভর এলাকা। কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় জমিতে ট্রাক্টর নেওয়া যাচ্ছে না। কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্কুলশিক্ষার্থী রাফিদ জানায়, প্রতিদিন সাইকেলে স্কুলে যেতে ভয় লাগে। একজন পার হওয়ার আগে আরেকজনকে অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি হলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়।

স্থানীয়রা জানান, কালভার্টটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সদর উপজেলা ও রুহিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।  দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি সংস্কার না হওয়ার কারণ জানতেও চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হবে।

রেদওয়ান মিলন/এসএইচএ