বিজ্ঞাপন

গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপর : মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপর : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, আমরা চেষ্টা করি যত অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের নিজস্ব এলাকা, দেশের কাজ, দেশে যত সমস্যা আছে সেগুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করার, মোকাবিলা করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। কোনো সিদ্ধান্তে ভুল হতে পারে। রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তারা অবশ্যই সমালোচনার মধ্যেই থাকবেন। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাটাই হচ্ছে সাংবাদিকের জন্য উপযুক্ত কাজ। কারণ তাকে সঠিকভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, সঠিক পথে গাইড করা। এ বিষয়গুলো খুব জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা অনেক সময় নিগৃহীত হন। তারা নিগৃত হন যে কোনো একটা সত্য ঘটনা প্রকাশ করলে দেখা যায় যে, যার বিরুদ্ধে খবরটা বের হয়েছে সে তার প্রতি চড়াও হয়। আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে হয়নি। তবে অনেক জায়গায় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। ঘটবেও না আশা করি। মিডিয়া যদি শক্ত হয়, এদেশের গণতন্ত্র শক্ত হয়। গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপরে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি  নির্বাচনের পূর্বে যে ওয়াদাগুলো দিয়েছিলাম, তা পূরণ করবার জন্য।  সেভাবেই কাজ করছি। ইতিমধ্যে দুইটি উপজেলার অনুমোদন হয়ে গেছে, কাজ শুরু হয়েছে, অলরেডি ভাগও হয়ে গেছে। দায়িত্ব বণ্টন হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই উপজেলাতে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হয়ে যাবে এবং নতুন ইউএনও এসে কাজ শুরু করবে। শুধু স্ট্রাকচার তৈরি হলেই তো হবে না। মানুষগুলোকে তৈরি করতে হবে। আমরা যেন সেখানে সঠিক নেতৃত্ব পাই তারা যেন সঠিকভাবে নতুন উপজেলাগুলোতে কাজ করতে পারেন এ ব্যাপারে আমাদেরকে সজাগ হতে হবে।

সকালে মোলানী এলাকায় একটি প্রতিবন্ধী এতিমখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ সকালে মোলানীতে প্রতিবন্ধীদের একটি এতিমখানায় ঢুকেছিলাম। এখানে গিয়ে দেখলাম প্রায় সাড়ে ৫শ প্রতিবন্ধীকে তারা লালন করে। দুঃখের ব্যাপার হলো  তারা যে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা পেত, গত ১৫ বছর তা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ওই ভদ্রলোক রাজনীতি করেন, বিএনপি করেন। সুতরাং তার সব সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে। তারা যে ঘরগুলোতে থাকে সেই ঘরের টিনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা খুব দ্রুত তার সমস্যাগুলো সমাধান করে দেব।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করতে চাই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাগ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  এখান থেকে তাদেরকে বের করে আনতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার সাদাকে সাদা বলবেন, কালোকে কালো বলবেন। এখানে যারা খারাপ কাজ করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে লিখবেন। আর যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে একটু বাহবা দেবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমার অনুরোধ।

এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার (এসপি) বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান তানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রেদওয়ান মিলন/আরএআর