ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ও পালকি গাড়ির চালক মো. মানিক মিয়া (৪০) হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার (সেলিনা) বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতাকেও বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।
নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল আনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীর নেতৃত্বে একদল লোক মানিক মিয়াকে ধরে পশ্চিম দাপুনিয়া এলাকার হোসেন আলীর বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানে দফায় দফায় তাকে নির্যাতন ও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে রাতে শোয়েব মুনশীর লোকজন মানিকের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে খবর দিয়ে তার ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেন। সুমাইয়া ঘটনাস্থলে গেলে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে ‘তার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন বক্তব্য রেকর্ড করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। রেকর্ড নেওয়ার পর অর্ধমৃত অবস্থায় মানিককে স্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মৃত্যু সনদে চিকিৎসক উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তার পা ও উরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল, তবে হাড় চামড়া ভেদ করে বাইরে বের হয়নি।
নিহতের ভাই সুখ মিয়া বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুনশী ও তার লোকজন আমার ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হয়েছে। মামলায় শোয়েব মুনশীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
তিন নেতা বহিষ্কার
এদিকে মানিক মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনবিরোধী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শোয়েব মুনশীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল ইসলাম বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধ করে কেউ দলে টিকে থাকতে পারবে না।
একই ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনবিরোধী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আল ইমরান খান ও রিফাত হাসানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, শ্রমিক নেতা মানিক মিয়া হত্যার অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাখাওয়াত সুমন/আরএআর
