দেশের প্রতিটি জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেলের সংযোগ রয়েছে, বাকি জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে নেত্রকোণা রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এর আগে তিনি বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনও ঘুরে দেখেন।
নেত্রকোণায় দিনব্যাপী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাটে একটি পথসভায় অংশ নেন এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এরপর তিনি খালিয়াজুড়ির রোয়াইল-নাওটানা সংযোগস্থল, বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জের বরান্তর চিরাডুবি হাওরেও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে যোগ দেন। সফরে তার সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যানজট নিরসনে রেলপথে প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ট্রেনে ইন্টারনেট (Wi-Fi) সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইনের মাধ্যমে যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় কমিয়ে আনার কাজ চলছে।
ইঞ্জিন ও বগির সংকট নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে নতুন রেললাইন তৈরি হলেও সেই অনুপাতে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) বা কোচ কেনা হয়নি। ফলে বিশেষ করে মিটারগেজ লাইনে কিছুটা সংকট রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ইঞ্জিন ও বগি আমদানি করতে সাধারণত ২-৩ বছর সময় লাগে। তবে বর্তমানে নতুন কোচ সংগ্রহের পাশাপাশি অকেজো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে এই সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে।
নেত্রকোণাবাসীর বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং টয়লেট নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নেত্রকোণায় নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো আমরা কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং বর্তমানে এর ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) চলছে। জনগণের অর্থ অপচয় রোধে যে কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে মাঠপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা করা জরুরি। জনস্বার্থে প্রকল্পটি কার্যকর প্রমাণিত হলে সরকার অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/এএমকে
