বিজ্ঞাপন

বাল্যবিবাহের তিন মাস পর অনুষ্ঠান, কনের অভিভাবককে জরিমানা

বাল্যবিবাহের তিন মাস পর অনুষ্ঠান, কনের অভিভাবককে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা সদরের মাখালডাঙ্গায় বাল্যবিবাহের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি বাড়িতে বাল্যবিবাহ উপলক্ষে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে—এমন তথ্য পায় প্রশাসন। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ওই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল এবং শুক্রবার সেই বিয়ে উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়।

পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে বাল্যবিবাহের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে বিয়েটি কয়েক মাস আগে সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনাস্থলে বরপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে কনের বাবা-মাকে আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, তদন্তে জানা গেছে, ওই বাল্যবিবাহটি প্রায় তিন মাস আগে সম্পন্ন হয়েছিল। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে এমন ঘটনায় দুই বছর পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলে ছেলেপক্ষকে পাওয়া না যাওয়ায় মেয়ের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক অপরাধে আর জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি আইনগত অপরাধ নয়, এটি একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। এর ফলে কিশোরীদের শিক্ষা ব্যাহত হয়, অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় এবং পারিবারিক অস্থিরতা ও বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতাও বাড়ে। তাই কোনোভাবেই বাল্যবিবাহকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, মেয়েদের লেখাপড়া নিশ্চিত করে দক্ষ, স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নারীরা যেন তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন নয়; অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

আফজালুল হক/এএমকে