বিজ্ঞাপন

দেয়ালে ফাটল-খসে পড়ছে পলেস্তারা, পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা

দেয়ালে ফাটল-খসে পড়ছে পলেস্তারা, পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা। ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনটি ২০১৩ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে আসায় রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

একসময় ৩১ শয্যার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। তবে উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩১ শয্যার পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেটি এখনও পুরুষ ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভবনের প্রায় প্রতিটি দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে নিচে জমে রয়েছে। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ওয়ার্ডের মেঝে ভিজে যায়, ফলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বাধ্য হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন ভর্তি রোগীরা।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী আলাল উদ্দিন বলেন, আমরা এমনিতেই অসুস্থ, সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখছি নিজের জীবনই নিরাপদ নয়। যদি মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে, তাহলে আমাদের কী হবে? চিকিৎসা নিতে এসে এখন উল্টো মৃত্যু ভয়ে থাকতে হচ্ছে।

রোগী আতিয়ার রহমান বলেন, ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভয়েই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।

এক রোগীর স্বজন জরিনা খাতুন বলেন, নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি ভবনের দেয়ালজুড়ে ফাটল। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন বলেন, এই পরিত্যক্ত ভবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরই ভবনটি পরিদর্শন করেছি। এটি অনেক আগে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। বিষয়টি জেনে আমিও উদ্বিগ্ন হয়েছি। আপাতত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খসে পড়া পলেস্তারা অপসারণ ও সাময়িক সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো ভবনটিতে আইসোলেশন ইউনিটসহ মোট ৩১টি শয্যা রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাহিদার কারনে বর্তমানে এটি পুরুষ ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত রোগীদের নিরাপদ কোনো স্থানে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছেও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হবে।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

আরকে

বিজ্ঞাপন