বিজ্ঞাপন

আগামী অর্থবছরে ১০টি ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ করব : আমিনুল হক

আগামী অর্থবছরে ১০টি ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ করব : আমিনুল হক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই প্রথম খেলাধুলাকে কীভাবে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন। তারই নির্দেশনায় বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়া ভাতা বা ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছি। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে আমরা ক্রীড়া ভাতা প্রদান করে পেশাদারিত্বের একটি সুদৃঢ় জায়গা তৈরি করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই। 

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ১৫ দলীয় আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ও খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুলনা বিকেএসপিকে দ্রত সময়ের ভেতরে স্বয়ংসম্পূর্ণ করব। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরকে বাছাই করে আমরা তাদেরকে সেই বিকেএসপিতে সরকারিভাবে পড়াশোনা এবং সকল খেলাধুলার দায়িত্ব বহন করব। সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

খেলার জন্য মাঠ দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে তার কার্যালয় থেকে কমিটি করে দিয়েছেন। সেই কমিটিতে আমি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছি। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। আরও ১২ জন সচিব রয়েছেন, যাদের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আমরা ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের মাঠ সংরক্ষণ এবং সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলার উপযোগী মাঠ উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নির্বাচনি ইশতেহারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ৮টি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আগামী অর্থবছরে ১০টি ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ করব ইনশাল্লাহ। সেই স্পোর্টস ভিলেজের মাধ্যমে সেখানে আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, স্যুটিং এবং ফুটবলসহ সকল খেলার উপযোগী মাঠ সেখানে থাকবে ইনশাল্লাহ। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার প্রদান করেছি, আপনাদের প্রত্যেকটি ইউনিয়নের একটি ৮ বিঘা জায়গা বের করে দেন, আমরা সেইখানে খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি করে দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে চাই।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে নতুন কুঁড়ি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২ মে সিলেট থেকে একযোগে ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেছেন। সেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সারাদেশ থেকে এক লাখ ৬৮ হাজার কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করেছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলা শেষ করেছি। জাতীয় পর্যায়ে এই জুলাইয়ে শেষ হবে। ২১ জুলাই ফাইনাল রাউন্ড শুরু করে ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসর শেষ করবেন। গত ১ জুলাই থেকে ১২-১৪ বছর বয়সীদের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখে আমরা ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা পেশাগত স্বীকৃতি প্রদান করতে চাই। কারণ বাবা-মা তার সন্তানকে পড়াশোনা করিয়ে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু খেলোয়াড় হবে এই স্বপ্নটা খুব বেশি কেউ দেখে না।

নিজের খেলোয়াড় জীবনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি খেলতে খেলতে ফুটবলার হয়েছি। আমার কোনো লক্ষ্য ছিল না যে আমি ফুটবলার হব। যখন দেখেছে আমি ভালো খেলছি, তখন আমাকে ফুটবল খেলার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছে। কিন্তু আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যাদেরকে অন্বেষণের মাধ্যমে তুলে আনা হবে।

তিনি বলেন, আমরা সন্তানদেরকে ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে চাই। আমাদের সন্তানদেরকে মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই। যুব সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে চাই। সবগুলো কাজের মূল ভিত্তি হচ্ছে খেলাধুলা। খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা একটি সুষ্ঠু জাতি গড়ে তুলতে পারব। তিনি রাষ্ট্র এবং সমাজের গুণগত পরিবর্তনের জন্য সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান। 

মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ