নাটোরের লালপুরে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিরাজ উদ্দিন। প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে, রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে করতালির মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।
শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনকে ঘিরে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মো. সিরাজ উদ্দিন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার এই অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং প্রাপ্য সম্মান জানাতেই এমন আয়োজন করা হয়।
সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মান জানিয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসিমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি এ অঞ্চলের শিক্ষার আলোকবর্তিকা। তার নিষ্ঠা, সততা ও অবদান শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘদিন অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুনতাসিন আলী ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. লামিয়া খাতুন প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দিলে উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়িতে করে শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনকে তার বাড়ির উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানান।
বিদায়ী শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষকতা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও মানুষের এমন সম্মান আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে। সবার এই ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বশির উদ্দিন, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শমজান আলী, লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাজেউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
