বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস জাইকা সভাপতির

রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস জাইকা সভাপতির

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সভাপতি  ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং উখিয়ার সোনারপাড়ায় ফিশারিজ লাইভলিহুড এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (FiLEP) পরিদর্শন করেছেন। 

শনিবার (৪ জুলাই) দিনব্যাপী এই সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটে চলমান মানবিক সহায়তা, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সফরের শুরুতে সকালে কক্সবাজারে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান। 

পরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তারা চলমান মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় জরুরি সেবার মানোন্নয়ন, জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ, দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় (আরআরআরসি) জানায়, ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজারে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জীবিকায়ন, মৎস্য, ওয়াশ এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাইকা প্রায় ৩৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।

বিকেলে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার সোনারপাড়ায় জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত FiLEP প্রকল্প পরিদর্শন করে।

সেখানে জাইকা সভাপতি স্বাস্থ্যসম্মত ট্রে ওভেন প্রযুক্তিতে শুঁটকি উৎপাদনের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সুবিধাভোগী তিনটি পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রকল্পটির আওতায় ১২০টি পরিবারকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জাইকার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন,  জাইকার এই প্রতিশ্রুতি কক্সবাজারে মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয় জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য আরও টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ইফতিয়াজ নুর নিশান/‎এসএইচএ