গাজীপুরের শ্রীপুরে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ধসে পড়া সেই সড়ক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় শ্রীপুর-দমদমা-গাজীপুর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এসময় তিনি সয়েল টেস্টে মাটির দুর্বলতা, বালু-মাটির সংমিশ্রণে ভ্যাকুয়াম থাকার কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। এখানে একটি কবরস্থানকে সম্মান দেখাতে সড়কটি নদীর দিকে বেশি নেওয়া হয়েছে। ওই স্থানে মাটি দুর্বল থাকার কারণে কিছু অংশ ধসে গিয়েছে। এছাড়াও গত ধানের মৌসুমে রাস্তায় ধান শুকানোর সময় গাড়িগুলো নদীর পাশ দিয়ে বেশি যাওয়া-আসা করেছে, ফলে এ অংশ ধসে গিয়েছে।
তিনি বলেন, এ কাজটি দুই বছর আগে শেষ হয়েছে, ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার ত্রুটি কতটুকু ছিল তা নোটিশে আনা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী ও টেকসইভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এলজিইডির ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাবুল আখতার, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভুঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, শ্রীপুর উপজেলা থেকে জেলা শহরে সহজ যাতায়াতের লক্ষ্যে ২০২১ সালে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার সড়কে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সড়কটির লাগুয়া সূতি নদী। সড়কের ভাঙন ঠেকাতে নদীর পাড়ে ব্লক বসানোসহ পুরো পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরুতেই নিন্মমানের কাজের অভিযোগ তুললেও তা কর্ণপাত করেননি ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নতুন বসানো ব্লকগুলো দেবে গিয়ে নদীতে ধ্বসে পড়ে। কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও ধস থামানো যাচ্ছে না। বরং সামান্য বৃষ্টি হলেই ভাঙনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
