ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন ২৪ বছর বয়সী সাকিব। স্থানীয় দুই প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে নদীতে নেমে একবার ডুব দিয়ে উঠলেও দ্বিতীয়বার আর ভেসে ওঠেননি। এ ঘটনার উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম থেকে আসা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরি দল।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জঙ্গলঘোনা গ্রামে মুহুরী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মো. সাকিব কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। শুক্রবার তিনি দক্ষিণ জঙ্গলঘোনা গ্রামে তার নানা মরহুম সুরুজ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা মায়া আক্তারসহ দুই নারীর সঙ্গে জঙ্গলঘোনা মুহুরী সেতু-সংলগ্ন নদীতে গোসল করতে নামেন সাকিব। নদীতে নেমে একবার ডুব দিয়ে উঠে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। পরে আবার পানিতে ডুব দিলে আর ওপরে ওঠেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী মায়া আক্তার বলেন, সাকিব আমাদের সঙ্গেই নদীতে নেমেছিল। প্রথমবার ডুব দিয়ে উঠলেও দ্বিতীয়বার ডুব দেওয়ার পর আর ওঠেনি। তাৎক্ষণিক আমরা চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে ডাকি।
তার নানি বেগমের নেছা বলেন, সাকিব মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। আমাদের অজান্তে নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে।
এদিন দুপুরে খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ড্রামের তৈরি ভেলা ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালিয়েও সাকিবের সন্ধান মেলেনি।
পরশুরাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন। পানির তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, যুবকের নিখোঁজের বিষয়টি অবগত হয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দলও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।
তারেক চৌধুরী/এএমকে
