বিজ্ঞাপন

বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল বগুড়ার ৬ শিক্ষার্থী

বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল বগুড়ার ৬ শিক্ষার্থী

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণার শিকার ৬ শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে না পারলেও শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগে তারা প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের এইচএসসি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে।

প্রবেশপত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- হাসর, সম্রাট সরকার, তৌহিদুর রহমান তামিম, মইনুর ইসলাম, অমিত হাসান এবং সাব্বির হোসেন। তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়।

এই ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে তৌহিদুর রহমান তামিম ও অমিত হাসানের কেবল ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা বাকি থাকায় তারা শনিবার কেন্দ্রে যাননি। অপর চার শিক্ষার্থী বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

এর আগে, নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারায় মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। পরে তিনি সেই অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও তারা তা পাননি। এক পর্যায়ে গত বুধবার রাত থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত সেই কর্মী।

পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ঘটনা জানাজানি হলে দ্রুত তৎপর হয় জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানত না।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক আমাদের শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুক্রবার ভোরেই আমরা বোর্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে পৌঁছে যাই। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রবেশপত্র সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও আমরা ৬ জনের তথ্য পেয়েছি। তাদের সবার নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর পর বিশেষ বিবেচনায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ বলেন, বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট কলেজে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, আমরা খুবই খুশি যে আবারও আমাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারছি। পরীক্ষা দিতে না পেরে ভেঙে পড়েছিলাম। সে সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্য শিক্ষার্থীদের বলব, কোনো দালালের মাধ্যমে নয়, সব কাগজপত্র সরাসরি কলেজে জমা দেবেন।

আরেক শিক্ষার্থী মো. মইনুর ইসলাম বলেন, মনে হচ্ছিল জীবনের একটি বছর হারিয়ে যাবে। কিন্তু স্যার ফোন করে যখন জানালেন যে প্রবেশপত্র প্রস্তুত হয়েছে, তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজকের দিনটি আমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। কারণ যে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, সেই পরীক্ষাই আজ দিতে পারছি।

সম্রাট সরকারের মা নার্গিস আক্তার কলেজ, শিক্ষা বোর্ড ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছেলে পরীক্ষা দিতে পারায় আমরা খুবই আনন্দিত। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আব্দুল মোমিন/আরকে