বিজ্ঞাপন

২৬ মাসের বিল বকেয়া

স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা

স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। বাইরে তীব্র রোদ, ভেতরে গুমোট গরম। মাথার ওপর ফ্যান থাকলেও সেগুলো ঘুরছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পানির সংকট। বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় শিক্ষার্থীদের কেউ বাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে আসছে, আবার কেউ বাইরে থেকে আনা পানির ওপর নির্ভর করছে।

বিদ্যালয়টিতে ২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত ২৩ জুন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোতে ফ্যান বন্ধ। গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা। অনেকেই খাতাপত্র দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছে। বিদ্যালয়ের ভবনের ভেতরের টয়লেট পানির অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাইরে থাকা একটি টয়লেট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন। সেখানে বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর বলে, কারেন্ট না থাকায় খুব গরম লাগে। ক্লাস করতে কষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত কারেন্ট আসুক।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি বলে, ফ্যান চলে না, গরমে বসে থাকতে কষ্ট হয়। পানি পেতেও সমস্যা হয়।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনির বাবা বশিরুল আলম বলেন, গরমের কারণে অনেক শিশু স্কুলে আসতে চায় না। কারেন্ট নেই, ফ্যান নেই, পানি নেই। এ অবস্থায় বাচ্চাদের ক্লাস করা খুব কষ্টকর।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, দুই বছরের বেশি সময় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশুদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে সমস্যায় পড়েছি। বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া ক্লাস নেওয়া খুবই কষ্টকর।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে লাইন কেটে দেওয়া হয়। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালু করার। 

তিনি আরও বলেন, খাবার পানির বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের জন্যও বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ‌্যুৎ সমিতির অধীন পঞ্চগড় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে জেনে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এতদিন ধরে কেন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, ২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যালয়ের সংযোগ পুনরায় চালু করেছে।

নুর হাসান/আরএআর

বিজ্ঞাপন