বিজ্ঞাপন

ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি, গাইবান্ধায় নতুন করে ভাঙনের আতঙ্ক

ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি, গাইবান্ধায় নতুন করে ভাঙনের আতঙ্ক

গাইবান্ধায় গতকাল শনিবার থেকেই বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। এই নদে গত ৩০ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত সপ্তাহেও কমা-বাড়ার মধ্যে ছিল এই নদের পানি। ফলে নদীর তীরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। এছাড়া পানি বাড়ছে ঘাঘটেও। অন্যদিকে কমছে তিস্তা ও করতোয়ার পানি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ভাঙনে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ভিটেমাটি, ফসলি জমি। গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলমান পানি বৃদ্ধিতে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে।

এদিকে নতুন করে প্রবল ভাঙনের মুখে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রাম। সেখানে দুই সপ্তাহের ভাঙনে বিলীন হয়েছে ভিটেমাটিসহ অন্তত ২০ বিঘা আবাদি জমি। এ উপজেলায় তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে ফজলুপুর ইউনিয়ের চৌমহন চর, খাটিয়ামরি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা এলাকা। এছাড়া ভাঙনের শিকার হয়েছে একই উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকা। অপরদিকে প্রবল ভাঙনের শিকার হয়েছে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপসিয়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামার ও  ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চর এলাকা।

এছাড়া কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানির চর এলাকাও ভাঙনের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, ভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছে সদর উপজেলার মোল্লার চরের সিধাইল এলাকার মানুষ।

দক্ষিণ রসুলপুরের জাঙাগীর আলম বলেন, গতকাল সকালে হঠাৎ করে প্রবল ভাঙনের শিকার হয়েছি আমরা। নিমিষেই আমাদের বিভিন্ন ধরনের বড় বড় গাছ, বাঁশঝাড় তলিয়ে গেছে।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভাঙনের স্পটটি আমি দেখেছি, একটি পয়েন্টে ধীরে ধীরে ভাঙছে। বিষয়টি নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙে কথা বলেছি।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার বেলা ১২টা থেকে আজ সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৫৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে পানি কম-বেশির দোলাচল হলেও গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্টে ভাঙছে। ভাঙন ঠেকাতে ১০ থেকে ১২টি পয়েন্টে জরুরি কাজ হচ্ছে। অন্য পয়েন্টগুলোতেও দ্রুতই কাজ করা হবে।

মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন