আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত অভয়াশ্রমে অর্থের বিনিময়ে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কমিউনিটি গার্ডের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগের পক্ষে একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে এক জেলের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে রাতে মাছ ধরার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়।
অভিযোগে নাম এসেছে টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কমিউনিটি গার্ড হবিব মিয়ার। তিনি একই সঙ্গে গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পে নৌকার মাঝি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভিডিওতে শোনা যায়, মধ্যনগরের জেলে নবির হোসেন তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে রাতে হাওরে খোনা জাল ফেলার অনুমতি চান। প্রথমে প্রতি নৌকার জন্য ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও পরে দরদামের মাধ্যমে তা ৪০০ টাকায় নেমে আসে। আলোচনায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর বিষয়ও উঠে আসে। যদিও শেষ পর্যন্ত অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল কিনা, তার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে শোনা কণ্ঠস্বর হবিব মিয়ার সঙ্গে মিলে যায়। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। হবিব মিয়ার দাবি, মধ্যনগরের ওই ব্যক্তিদের তিনি চেনেন না এবং তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এমন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
ছিড়িয়ারগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক বলেন, ‘রাইতে অনেক সময় দেখি ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে লোকজন ভেতরে যায়। আমরা নিয়ম মেনে মাছ ধরি, তাই ওই দিকে যাই না। কিন্তু যারা চুরি করে মাছ ধরে, তাদের কারণে মাছও কমে যাচ্ছে, আমাদেরও ক্ষতি হচ্ছে।’
ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের জেলে নূর মিয়া বলেন, আমরা চাই হাওরটা ঠিকমতো পাহারা দেওয়া হোক। যারা টাকার জোরে বা কোনোভাবে অভয়াশ্রমে ঢুকে মাছ ধরে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মাছও বাঁচবে, হাওরও বাঁচবে।
ঘটনার বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। হাওরে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল চলছে। অবৈধ জাল উদ্ধার হলে তা ধ্বংস করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আয়তনের এই জলাভূমিতে রয়েছে ১০৯টি বিল। ১৯৯৯ সালে এটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি হিসেবে রামসার সাইটের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
একসময় চিতল, মহাশোল, বাঘাইড়, রিটাসহ ১৪১ প্রজাতির দেশীয় মাছের আবাসস্থল ছিল টাঙ্গুয়ার হাওর। তবে অব্যাহত চোরাশিকার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
তামিম রায়হান/এসএইচএ
