বিজ্ঞাপন

এইচএসসির ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, কম্পিউটার অপারেটর কারাগারে

এইচএসসির ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, কম্পিউটার অপারেটর কারাগারে

বগুড়ার শিবগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, শনিবার রাতে উপজেলার বানাইল এলাকায় তার বোনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সাব্বির হোসেন শাওন শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল এলাকার বাসিন্দা। তিনি মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজে কম্পিউটার অপারেটর পদে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন- তৌহিদুর রহমান সরকার তামিম, মাইনুর ইসলাম, অমিত হাসান, সাব্বির হোসেন, সম্রাট সরকার ও মোহাম্মদ হাসর।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম শিক্ষা বোর্ডে পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ছয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে মোট ২৭ হাজার টাকা নেন শাওন।

শাওন শিক্ষার্থীদের জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে কলেজে গিয়ে তারা তার কোনো খোঁজ পাননি। পরে জানতে পারেন, তাদের কারও ফরমই শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি এবং কোনো প্রবেশপত্রও ইস্যু করা হয়নি। ফলে ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তারা।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় ওই ছয় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বাদী হয়ে শাওনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, শনিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা হয়েছে। পরে রোববার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাব্বির হোসেন শাওনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ জুলাই বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা থেকে ওই ছয় শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এখন তারা নিয়মিতভাবে বাকি সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। প্রথম দিনের যে পরীক্ষা তারা দিতে পারেননি, সেটি পরবর্তীতে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

আব্দুল মোমিন/এসএইচএ