বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলেও বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি এবং আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১০টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যাওয়ায় অনেক কর্মী কাঙ্ক্ষিত কাজ পান না। বিশেষ করে নারী কর্মীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।
তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যেত। তবে বর্তমানে সেই ঘটনার হার আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে এসেছে। এখন কোনো প্রবাসী বিদেশে অন্যায় বা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের নাগরিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গৃহকর্মীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বরিশাল টিটিসিতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এখানে ১২টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে কয়েকটির দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কেয়ারগিভারসহ কয়েকটি ট্রেডে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর চাকরির পেছনে না ছুটে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে একজন তরুণ নিজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন এবং অন্যদের জন্যও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএআর
