গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কফিল উদ্দিন মাস্টারকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি শরিফুল ইসলাম সাবুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১২ টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। রোববার সন্ধ্যার দিকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম সাবু হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের সামসুলের হকের ছেলে। এরআগে গত ২৮ জুন মামলার প্রধান আসামি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিলকে গাজিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আপন দুই ভাই। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
অপরদিকে, নিহত কফিল উদ্দিন মাস্টার ওই গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে এবং তিনি রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। প্রধান আসামি জলিল ও নিহত কফিল মাস্টার ওয়ারিশ।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, কফিল উদ্দিন হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামিকে সাভার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আসামি পথিমধ্যে রয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল সকালে কফিল উদ্দিন বাড়ির পাশের একটি জমিতে ধান কাটতে গেলে আসামি জলিলসহ তার পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারধর করতে থাকেন আসামিরা। এতে ঘটনাস্থলেই কফিল উদ্দিন নিহত হন। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার দুইদিন পর ৩০ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী জুলেখা ইয়াসমিন পান্না বাদি হয়ে জলিল মেম্বারকে প্রধান আসামীসহ নামীয় ১৩ জন এবং ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যার ঘটনার চারদিন পর (২মে) মামলার পলাতক আসামিরা নালিশি জমিতে ভাড়াটে লোক দিয়ে ধান কাটতে পাঠান। সেদিন সকাল ১০ টার দিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের জাদুর বাজার এলাকার শফিকুল মেম্বার, সাবেক মেম্বার জয়নাল ও স্থানীয় সাদেক আলীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন ভাড়াটে শ্রমিক ওই জমিতে (মাডারের ঘটনাস্থল) ধান কাটতে যায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের খবরে পুলিশ উপস্থিত হলে তারা সরে যায়।
মাসুম বিল্লাহ/এমটিআই
