গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিন ভর্তি রোগীর জন্য ১৯০ গ্রাম ব্রয়লার মাংসের বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ গ্রাম মাংস। রান্না করা মাংস ওজনে মেপে বরাদ্দের দেড়শ গ্রাম কম পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এমন অনিয়ম পেয়ে ক্ষুব্ধ হন তিনি। মাংসের পাশাপাশি ডাল ও সবজিও কম দেওয়ার বিষয়টিও নজরে আসে তার। পরে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের রাতের খাবার থেকেই রোগীদের বরাদ্দকৃত খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
এরআগে হাসপাতালে প্রবেশ করে আউটডোরসহ অন্যান্য বিভাগ পরিদর্শ করেন এমপি। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য দেখে তা তাৎক্ষণিক অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শনকালে রোগী ও রোগীর স্বজনরা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দেন।
পরে এমপি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারের রবাদ্দ রয়েছে। সকালে নাস্তায়, দুপুরের খাবার ও রাতের রাতের খাবারে কি থাকবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। আজ (রোববার) দুপুরে প্রত্যেক রোগী ১৯০ গ্রাম করে মুরগির মাংস পাওয়ার কথা। সেখানে দেওয়া হচ্ছে ৪০-৪৫ গ্রাম।
তিনি বলেন, এখানকার সংশ্লিষ্টরা জানালেন ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৪০০ এর মতো রোগী ভর্তি আছে। তারপরেও তো ৩০/৩৫ বা এতো কম মাংস পাওয়ার কথা না।
১৯৮৪ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে চালু হয় গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ১০০ শয্যায় এবং সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতালটি। কিন্তু ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলছে ১০০ শয্যার অবকাঠামো ও জনবল দিয়েই।
সম্প্রতি প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার নয়তলা আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হয় এবং তা ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে গণপূর্ত বিভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় আধুনিক এই অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি চালু করা যায়নি।
মাসুম বিল্লাহ/এমটিআই
