চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন নজর কাড়ছে সবার। ভিয়েতনামের আঠাবিহীন বারোমাসি লাল কাঁঠাল চাষ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলার মানিকপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল চাষের পাশাপাশি নিজের বাগানে ব্যতিক্রমী এই জাতের কাঁঠাল চাষ করে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন তিনি। গাছজুড়ে ঝুলে থাকা লালচে-গোলাপি রঙের কাঁঠাল দেখতে প্রতিদিনই তার বাগানে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
এ যেন কাঁঠালের বাগানে এক ভিন্ন রূপ। প্রথম দেখায় অনেকেই অবাক হয়ে যান। কারণ এটি প্রচলিত সাধারণ কাঁঠালের মতো নয়। ভিয়েতনামের এই বিশেষ জাতের কাঁঠালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কোনো আঠা নেই। এর কোষের রং লালচে-গোলাপি, দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতে অত্যন্ত মিষ্টি। এছাড়া বারোমাসি জাত হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময় ফলন পাওয়া যায়।
নতুন কিছু করার আগ্রহ, পরিশ্রম আর পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন পথ তৈরি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সজল আহমেদ। তার এমন উদ্যোগ শুধু নিজের সফলতার গল্পই নয়, স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
ব্যতিক্রমী এই লাল কাঁঠালের বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থী ও আগ্রহী কৃষকরা। অনেকেই নতুন জাতের এই ফল চাষ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। সজলের এই উদ্যোগ জীবননগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন পরিচিতি পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমাদের জীবননগরে এই কাঁঠাল চাষ শুরু করেছি। আমরা এই কাঁঠালের পাঁচটি ভ্যারাইটি (জাত) এনেছি। এই কাঁঠাল দেখতেও খুবই সুন্দর। শিশু থেকে শুরু করে সবাই এটি পছন্দ করে। দেখতে অনেকটা স্ট্রবেরির মতো।
কাঁঠাল আস্তে আস্তে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই জাতের কাঁঠাল আমরা দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে পারলে এটি ভালো লাভজনক হবে। এই কাঁঠাল বাড়ির ছাদেও চাষ করা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আমার এই কাঁঠাল বাগান দেখতে আসছেন।— যোগ করেন সজল।
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আধুনিক ও লাভজনক ফল চাষে তরুণদের এমন উদ্যোগ কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। নতুন জাতের ফল চাষ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদসহ দুজন ভিয়েতনামের এই কাঁঠাল চাষ শুরু করেছেন। আমি তাদের বাগান পরিদর্শন করেছি এবং কাঁঠাল খেয়েছি। এটি কিছুটা ঝাঁঝালো ধরনের হলেও স্বাদ ভালো। আমরা তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আফজালুক হক/এমটিআই
