ময়মনসিংহ নগরের আর কে মিশন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৩৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাড়িওয়ালাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুন) রাতে নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজিব আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে কিছু সময় চাইলেও রাজিবকে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িওয়ালা, তার ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রাজিবের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে চলে যান।
খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রনি ও সজলকে ডিবি পুলিশ গতকাল রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাদের দুজনকেই এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনের নামে মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সাখাওয়াত সুমন/এসএইচএ
