বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১১ জেলেসহ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কোস্টগার্ড।
রোববার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে গুরুতর আহত বায়েজিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ (৩০) বলেন, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি শনিবার রাতে আমরা ১১ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশে বঙ্গোপসাগরে যাই। রোববার রাত ৯টার দিকে বৈরী আবহাওয়া, প্রবল স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া আঁকড়ে ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা আমরা সাগরে ভাসতে থাকি। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে আমাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫), বায়েজিদ (৩০)।
নিখোঁজ ছয় জেলে হলেন—পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খা (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক বলেন, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। নিখোঁজ সব জেলেদের উদ্ধারে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে
