ব্রাজিল ফুটবল দলের খেলা বড় পর্দায় দেখানোর আয়োজন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জহিরুল ইসলাম (২৪) নামে এক তরুণ।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করতে গ্রামবাসীর জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আয়োজনের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে যান জহিরুল ইসলাম। সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার শরীর ঝলসে যায়।স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জহিরুল ইসলাম হরতকিবাড়িয়া গ্রামের আলোতাজ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। বিদ্যুতের কাজ করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
জানা গেছে, জহিরুলের সংসারে রয়েছেন তার স্ত্রী জাকিয়া আক্তার এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়া জাকিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার স্বামী ব্রাজিলের খুব ভক্ত ছিল। গ্রামের সবাই যেন একসঙ্গে খেলা দেখতে পারে, সেই জন্য বড় পর্দার ব্যবস্থা করছিল। বিদ্যুতের লাইন দিতে গিয়েই সে আর ফিরে আসল না। আমার এই ছোট্ট ছেলেটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব, কীভাবে সংসার চালাব-কিছুই বুঝতে পারছি না।”
নিহতের বাবা আলোতাজ মিয়া বলেন, “আমি ঢাকায় ছিলাম। হঠাৎ মোবাইল ফোনে খবর পাই, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। খবর শুনেই দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসি। এমন মৃত্যু কোনো বাবা যেন না দেখে।”
ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ জহিরুলের মা বলেন, “মৃত্যুর সময় আমার বাবার কত কষ্ট হইছে! সারা গায়ে আগুন জ্বলছিল। আশপাশের মানুষ অনেক চেষ্টা করলেও আমার বাবারে আর বাঁচাইতে পারে নাই।”
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জহিরুল অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও খেলাপ্রেমী ছিলেন। বিশেষ করে ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। কয়েকদিন আগেও তিনি নিজ হাতে এলাকায় ব্রাজিল দলের ব্যানার ও পোস্টার টানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রিয় দলের খেলা দেখানোর আয়োজনই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ আয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন,“ছেলেটি খুব ভালো ছিল। এলাকার মানুষের জন্য খেলা দেখানোর আয়োজন করতে গিয়ে নিজের জীবন দিল। এই অসহায় পরিবারটির পাশে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্রাজিল দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতিও অনুরোধ থাকবে, তারা যেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন,“বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এমটিআই
