বৃষ্টির মধ্যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নগরের ৩ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে রেইনকোট তুলে দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বর্ষায় প্রতিকূল আবহাওয়াতেও যাতে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে টাইগারপাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘একটি ক্লিন সিটি গড়তে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের নিরলস পরিশ্রমের ওপরই নগরবাসীর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমান অনেকাংশে নির্ভর করে। বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়া যেন আপনাদের কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতিটি কর্মীর জন্য রেইনকোটের ব্যবস্থা করেছি।’
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চসিকের প্রতিটি পরিচ্ছন্ন কর্মীকে দুই ঈদে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে উপহার দিয়েছেন। এছাড়া তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণের প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে যেভাবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।’
মেয়র আরও বলেন, ‘আবর্জনা পরিবহনের সময় ট্রাক অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। খোলা ট্রাকে ময়লা পরিবহন করলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং সড়কে বর্জ্য পড়ে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই প্রতিটি গাড়িতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ময়লা ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।’
দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেক কর্মীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা ফাঁকি দিলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া ও মারুফুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আতিকুল হা-মীম/এমটিআই
