বিজ্ঞাপন

সড়কে কাদা, সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

সড়কে কাদা, সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

ফেনীর পরশুরামে একটি কর্দমাক্ত সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের প্রধান সড়কে ব্যতিক্রমী এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ জরুরি সেবার কোনো যানবাহনও এই এলাকায় ঢুকতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। বারবার তাগিদ দিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না দেখায় এবার অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানান তারা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তার মাঝখানেই ধানের চারা রোপণ করে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মজুমদার বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পুরো সড়কজুড়ে কাদা জমে থাকে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে এবং রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজন হলেও কোনো যানবাহন এই সড়কে আসতে চায় না। 

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এই দুর্ভোগ আজকের নয়, বহু বছরের। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় এসে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ সহ্য করতে করতে আমরা ক্লান্ত। কতবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি, তবুও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখিনি। এখন আর আশ্বাসে বিশ্বাস নেই। রাস্তার বর্তমান অবস্থা এমন যে, এটি দেখে চাষের জমি মনে হয়। তাই বাধ্য হয়েই আমরা কাদামাখা সড়কে ধানের চারা রোপণ করেছি। এটির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আনতে চাই।

স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম বলে, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে জুতা হাতে নিয়ে হেঁটে যেতে হয়। কাদায় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়, অনেক সময় পিছলে পড়ে আহতও হতে হয়। স্কুল-মাদরাসায় সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন এভাবে চলাচল করা খুবই কষ্টের। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারি।

মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কথা অবগত হয়েছি। টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এ ব্যাপারে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি অল্প কয়েকদিন আগেই এখানে যোগদান করেছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত জেনে সড়ক সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তারেক চৌধুরী/এএমকে