টানা ভারী বর্ষণের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বালুচরা এলাকায় পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর সড়ক থেকে গাছ ও ধসে পড়া মাটি অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই উপজেলার বালুচড়া এলাকায় একটি বড় গাছ উপড়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর পড়ে। একই সঙ্গে পাহাড়ের একাংশ ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উভয় দিকের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক থেকে উপড়ে পড়া গাছ ও ধসে পড়া মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোদুল হাসান রুবেল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ধসে কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল রাজু/এসএইচএ
