বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক, হলফনামায় যা মিলল

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক, হলফনামায় যা মিলল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও প্রচারণাকে ঘিরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা, সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন না করে আংশিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, শপথ গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে মীর শাহে আলম পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান। পরে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার, পরিচালনা ও সার্বিক দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মিলটির ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার গণেশপুর গ্রামের রাইস মিল ব্যবসায়ী রবিউল আলম।

রবিউল আলম বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় মিলটি কিনেছি। মালামালসহ প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই প্রতিবেদনে হলফনামায় উল্লেখ থাকা ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির পরিবর্তে মাত্র ৩১ শতাংশ জমির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। 

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়, বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে কেনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি কেনার প্রশ্নই আসে না।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম বহু বছর ধরে এ অঞ্চলের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একটি মহল তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আব্দুল মোমিন/এএমকে